শরীয়তপুরে হিন্দু শিক্ষার্থীদের গরুর মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ

শরীয়তপুরের চিকন্দী সরফ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে এক চরম সাম্প্রদায়িক ও ন্যক্কারজনক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক একটি অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীদের খাসির মাংসের কথা বলে পরিকল্পিতভাবে গরুর মাংস খাওয়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবার।

 

জানা গেছে, অনুষ্ঠানে হিন্দু শিক্ষার্থীদের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতির কথা জেনেও কৌশলে তাদের গরুর মাংস খাওয়ানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর একাধিক শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং অনেকেই অসুস্থ হয়ে বমি করতে শুরু করে।

 

এই ঘটনাকে নিছক ভুল নয়, বরং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট এবং বর্তমান সরকারকে হেয়প্রতিপন্ন করার একটি গভীর ও গুপ্ত ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।

 

এই ঘটনার মূলহোতা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক নূর হোসেনের নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক নূর হোসেন বিগত সরকারের একজন সুবিধাভোগী দোসর। তার নেতৃত্বে এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য শিক্ষকরা কার বা কাদের প্ররোচনায়, কী উদ্দেশ্যে এই ঘৃণ্য সাম্প্রদায়িক কাজ করেছেন তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন হীন চক্রান্ত কোনোভাবেই কাম্য নয়। ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর এই আঘাত কেবল সনাতনী শিক্ষার্থীদের অনুভূতিতে আঘাত হানেনি, বরং এটি দেশকে অস্থিতিশীল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

 

এ ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু জনগণ ও অভিভাবকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান শিক্ষক নূর হোসেনসহ সকল দোষী শিক্ষককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী ঘৃণ্য কাজ করার সাহস না পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *