চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা তসলিম উদ্দিন ও তার ছোট ভাই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত তসলিম উদ্দিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য এবং ধর্মপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার ছোট ভাই মহিউদ্দিনও ইউনিয়ন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
প্রধান শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশ বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে টমটমে করে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ফকিরপাড়ার প্রবেশপথে বিএনপি নেতা তসলিম উদ্দিন ও তার ছোট ভাই মহিউদ্দিন দলবল নিয়ে তার টমটমের গতিরোধ করেন। পরে তাকে নামিয়ে মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং অ্যাডহক কমিটি গঠন-সংক্রান্ত একটি ফাইল তাদের হাতে তুলে দিতে হেনস্তা করা হয়। পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এলে ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ আসার পর একপর্যায়ে তিনি বাধ্য হয়ে ফাইলটি তাদের হাতে তুলে দেন।
তিনি জানান, বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হতে হলে স্নাতক পাস হতে হয়। তবে তাদের দেওয়া তিনজনের তালিকার একজনেরও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দেওয়া হয়নি। বারবার অনুরোধের পরও সনদ না দিয়ে তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ফাইলটি উপজেলা কার্যালয়ে পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তাকে হেনস্তা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি
তবে তসলিম উদ্দিন ও মহিউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়ে প্রধান শিক্ষক মিল্টন বিকাশ দাশের সঙ্গে মতবিরোধের সৃষ্টি হলেও তাকে হেনস্তা করা বা তার কাছ থেকে ফাইল ছিনিয়ে নেওয়া হয়নি। তারা বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে আবদুল ওহাবকে সভাপতি করার সুপারিশ করেছিলেন। প্রধান শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে তার বাসা থেকে ফাইলটি এনে ইউএনও কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল ওয়াহাব বলেন, তাকে (বিকাশ দাশ) কেউ হেনস্তা করেনি। তার সঙ্গে কথা বলে অফিসে গিয়েছি। সেখানে তিনি লোকজন এনেছেন। তার লোকজন ঝামেলা করেছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া বলেন, প্রধান শিক্ষককে প্রকাশ্যে হেনস্তার বিষয়টি যদি সত্য হয়ে থাকে তা হলে ওই শিক্ষকের আইনের আশ্রয় নেওয়া উচিত। আর এখন যেহেতু সেখানে বিএনপির কমিটি নেই, তাই আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারছি না।
সাতকানিয়া থানার এসআই মামুন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার আশীষ বরণ দেব জানান, অ্যাডহক কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।