রংপুরে ডেকে নিয়ে যুবককে গলা কেটে হত্যা, দুই বন্ধু গ্রেপ্তার

পুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে পরকীয়া প্রেমের বিরোধের জেরে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৫) নামে এক যুবককে ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃতদের মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রংপুর পিবিআই পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরে আলম বলেন, সাজু ও হাফিজুল দুই বন্ধু। রোববার রাতে কাউনিয়া উপজেলার চরচতুরা গ্রামের শেষ সীমান্তে হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লীমারী হকের বাজারের যুবক আবু বক্কর সিদ্দিক হত্যার শিকার হন। রাতেই ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ ও চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করে হারাগাছ থানা পুলিশ। খবর পেয়ে রাতেই পিবিআই ক্রাইমসিন এলাকায় পৌঁছে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ওই রাতেই হত্যার ঘটনায় জড়িত সাজুল মিয়া সাজুকে আটক করে পিবিআই। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার ঘটনার পরদিন সাজুর বন্ধু হাফিজুলকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুইজনেই সিদ্দিককে গলা কেটে ও ঘাড়ে, মুখে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

এছাড়া ওই রাতেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাজুর স্ত্রী মুন্নি বেগমকেও আটক করা হয়। সোমবার মুন্নিকে পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করে হারাগাছ থানা পুলিশ।

উপ-পরিদর্শক নুরে আলম বলেন, পরকীয়া প্রেমের জেরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। সাজুর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেম ছিল সিদ্দিকের। সাজুর বাধা উপেক্ষা করে তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন সিদ্দিক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাজু রোববার রাতে সিদ্দিককে মিলনবাজারে আসতে বলেন। সিদ্দিক সেখানে আসার পর তাকে চরচতুরা গ্রামের শেষ সীমান্তে নির্জন সড়কে নিয়ে গিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে গলা কেটে ও ঘাড়ে, মুখে কুপিয়ে হত্যা করেন সাজু ও তার বন্ধু হাফিজুর। সিদ্দিকের কপালে কোপানোর সময় চাইনিজ কুড়ালের আঘাতে সাজুর বাম পায়ে কেটে রক্তাক্ত জখম হয়। সিদ্দিকের মৃত্যু নিশ্চিতের পর সাজু ও হাফিজুর ঘটনাস্থলের পাশের একটি পুকুরে রক্তমাখা চাইনিজ কুড়ালটি পরিষ্কার করে বালুর নিচে পুঁতে রাখেন। এরপর সাজুর বাড়িতে গিয়ে ঘরে বসে সাজু ও হাফিজুর ইয়াবা সেবন করেন। ওই রাতে পুকুরের পাড়ে রক্তের চিহ্ন দেখে সেখান থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাইনিজ কুড়ালটি উদ্ধার করে হারাগাছ থানা পুলিশ।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হারাগাছ থানায় রোববার রাতেই নিহতের বড় ভাই তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় পিবিআইকে। পিবিআই রংপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে তারা দায় স্বীকার করেছে। নিহতের ভাই তাজুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সাজুর স্ত্রীর প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *