নিখোঁজের তিন ঘণ্টা পর মুখে স্কচটেপ বাঁধা অবস্থায় শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ মিলল ছাদে

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় নিখোঁজের প্রায় তিন ঘণ্টা পর আব্দুর রহমান (৫) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির গলায় লাল স্কচটেপ প্যাঁচানো এবং মুখের ভেতর চাল ও পলিথিন ঢোকানো ছিল। বুধবার (১৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় আশুলিয়ার ভাদাইল পশ্চিমপাড়া এলাকার হারুনুর রশিদের চারতলা বাড়ির ছাদ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আব্দুর রহমান জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বাগবাড়ি এলাকার মো. শহিদ মিয়ার ছেলে। শিশুর পরিবার ওই বাড়ির নিচতলার বাসায় ভাড়া থাকে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলের পর থেকে শিশু আব্দুর রহমানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাসার ছাদে তার হাত-পা ও মুখে স্কচটেপ পেঁচানো এবং বস্তাবন্দি নিথর দেহ দেখতে পান স্বজনেরা। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিক আলামত দেখে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাসা থেকে বের হয় আব্দুর রহমান। প্রায় ১০ মিনিট পর পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাড়িওয়ালার স্ত্রী রিনা বেগম ছাদে হাঁসকে খাবার দিতে যান। সেখানে একটি হাঁস ধরতে গিয়ে নেটের নিচে সাদা রঙের একটি প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান। কাছে গিয়ে বস্তার ভেতর শিশুটির মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হন।

রিনা বেগম বলেন, আমি বাসার ছাদে হাঁস পালন করি। সন্ধ্যায় হাঁসকে খাবার দিতে ছাদে উঠি। পরে খাঁচা খোলার সময় একটা হাঁস বের হয়ে যায়। একে ধরতে গেলে উড়াল দিয়ে পাশে থাকা নেটের ওপর পড়ে। তখন নেটের নিচ থেকে একটা সাদা বস্তা বেরিয়ে আসে। আমি আরও কাছে গিয়ে বস্তাটি দেখে ভয় পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করি। শুনে সবাই ওপরে আসে। এরপর বস্তার ভেতর বাচ্চাটির ওই অবস্থা দেখে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।

কে বা কারা কী কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, পুলিশ সে বিষয় নিয়ে কাজ করছে বলে জানান ওসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *