ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে একটি বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারজানা আক্তার (১৭) নামে এক গৃহপরিচারিকার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) ভোরে পৌর শহরের মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার একটি বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফারজানা আক্তার বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের দত্তখলা গ্রামের সোলামুড়া এলাকার খলিল মিয়ার মেয়ে। প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিনি মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার ওই বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শহরের মেড্ডা পোদ্দারবাড়ি এলাকার হাবিবুর রহমানের ভবনের ভাড়াটিয়া সেন্টু মিয়ার বাসায় কাজ করতেন ফারজানা। রাতে বাসার ডাইনিংরুমে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, উদ্ধারকালে ফারজানা সেজেগুজে ছিলেন। তবে তার শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অপেক্ষা করা হচ্ছে।
নিহতের বাবা খলিল মিয়া জানান, তিনি মাঝেমধ্যে মেয়েকে দেখতে যেতেন। সর্বশেষ গত শুক্রবার মেয়ের সঙ্গে দেখা করে ৫০ টাকা দিয়ে এসেছিলেন। রোববার সকালে মেয়ের মৃত্যুর খবর পান।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাসার লোকজন তার মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তার ধারণা, মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, গৃহপরিচারিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।