মুক্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৬ সমন্বয়ক; জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন

২০২৪ সালের পহেলা আগস্ট। আল্টিমেটাম, মৌনমিছিল ও দেয়াল লিখনের মতো কর্মসূচিতে তখন উত্তাল ছাত্র-জনতার আন্দোলন। এ দিনেই বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবার লেখা হয় ৩২ জুলাইয়ের তারিখ। সেই আন্দোলন দমাতে সেদিন জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। জনরোষ থেকে বাঁচতে ছয় সমন্বয়কে মুক্তি দিতেও বাধ্য হন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা।
৩২শে জুলাইয়ের উত্তাল আন্দোলন। ক্যালেন্ডারের পাতায় পহেলা আগস্ট হলেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গণনা শুরু করেন ৩২ জুলাইয়ের ধারাবাহিকতায়, যা শেষ পর্যন্ত থেমেছিলো ৩৬শে জুলাইয়ে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে স্মৃতিচারণ ও প্রতিবাদের গ্রাফিতিতে ভরে যায় রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ দেয়াল।চব্বিশের এই দিনে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে রাজশাহী-কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশী আক্রমণের শিকার হন ছাত্র-শিক্ষক অনেকেই। সেদিন আটকও হন বেশকয়েকজন।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জামাত-শিবিরের সহযোগিতার অভিযোগে দলটির রাজনীতি নিষিদ্ধ করে এদিন প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী সরকার। এর মধ্যদিয়ে প্রকাশ্যে রাজনীতি করার সুযোগ হারায় দলটি। সে সময়কার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, জামায়াত-শিবিরের সাথে সম্পৃক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

সেদিনের অন্যতম বড় সংবাদ ছিলো কোটা সংস্কার আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে মুক্তির খবর। ডিবি কার্যালয় থেকে বন্দি সমন্বয়কদের ছেড়ে দেয়ার খবরে অনেকে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেও আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল সারাদেশে গ্রেফতার শিক্ষার্থীর মুক্তি। এ দাবিতে নাগরিক সমাজ মিন্টোরোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধনে সরকারকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয়।

সাধারণ ছাত্র–জনতার হত্যার বিচার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে করার দাবি তোলে নিপীড়ণবিরোধী শিক্ষক সমাজ। এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ-সমাবেশে কণ্ঠ মেলান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। ব্লক রেইডের নামে গণগ্রেফতার বন্ধ ও আটক শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তি চান তারা।

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতা ও হত্যার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি গণগ্রেফতার বন্ধে রাজপথে নামে শিল্পীরা। আকাশের কান্না থামাতে পারেনি তাদের ক্ষোভের আগুণ। আন্দোলনের ফাঁকে ঢাকা মেডিকেলে আহতদের দেখতে শিল্পী সমিতির আরেকদল মানুষ।

পুলিশের গুলিতে আন্দোলনকারীদের প্রাণ গেলে শেখ হাসিনার মতো ওবায়দুল কাদেরও নির্লজ্জের মতো দাবি করেন, ছাত্র-জনতার ওপর পুলিশ গুলি ছুঁড়েছে, এমন তথ্য সঠিক নয়। উল্টো অভিযোগ করেন তারেক রহমানের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে বিএনপি-জামাত।

মন্ত্রীদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানায় বিএনপি। জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিও দেয় দলটি। বিএনপির মহাসচিব সেসময় বলেন, সরকার শাক দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য চেষ্টা করছে। নির্যাতনকারী আওয়ামী লীগ সরকারকে দ্রুত পদত্যাগ করে জনতার হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়ার দাবি জানান।

সঠিক কারণ জানা না গেলেও এদিন ডিবি পুলিশের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন ছাত্র-জনতা হত্যার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হারুনুর রশিদ। অনেকে যাকে চিনতেন ভাতের হোটেল মালিক ডিবি হারুণ হিসেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *