বৃষ্টিতে কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা, নৌকায় করে কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

কুমিল্লা: গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর সিংহভাগ সড়ক তলিয়ে গেছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ১৩৯ দশমিক ৪ মিমি রেকর্ড করা হয়েছে কুমিল্লায়।

এতে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। এমন আবহাওয়ায়ও এইচএসসি পরীক্ষা চলছে কুমিল্লা নগরীর প্রধান তিনটি কেন্দ্রে।

ওইসব কেন্দ্রে কয়েক হাজার পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।
জলজটের কবলে পড়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের নৌকায় চড়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে দেখা গেছে।

কোমর সমান পানির ওপর ভর করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কেন্দ্র এবং কুমিল্লা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সময়মতো গাড়ি না পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেক দূর পর্যন্ত পানিতে হেঁটে হেঁটে পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেখা গেছে।

সড়কে কিছু অটোরিকশার দেখা মিললেও ভাড়া ছিল অস্বাভাবিক। কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত না করায় তীব্র সমালোচনা করছেন অভিভাবক ও নেটিজেনরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানান, পরীক্ষার বিষয়টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। এছাড়া আগে থেকে কুমিল্লা বোর্ডে এমন পরিস্থিতি ছিল না। সোমবারের আকস্মিক বৃষ্টিতে এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে পরীক্ষা স্থগিত করার মতো যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়নি।

এদিকে বাসাবাড়িতেও ঢুকে পড়েছে পানি। কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ বাসাবাড়ির নিচতলা প্লাবিত হয়েছে। দোকানপাটে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হতে দেখা গেছে।

ভোর থেকে টানা বৃষ্টিতে কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। এতে বড় লোকসানের কবলে পড়েন ব্যবসায়ীরা। কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের নিচতলাও প্লাবিত হয়েছে। এতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

জলাবদ্ধতার কবলে পড়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ কবি নজরুল হলের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে সকালে হলে সাপ ঢুকে পড়ে। দুর্গন্ধ আর পচা পানিতে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম।

দৌলতপুর এলাকার মুদি দোকানি ফেরদৌস আলম বলেন, গত কয়েকদিন কুমিল্লায় অল্প বৃষ্টিপাত হয়েছে। সোমবার হঠাৎ বেশি বৃষ্টির কারণে আমার দোকানসহ আশেপাশের সব দোকানে পানি ঢুকে মালামাল নষ্ট হয়ে গেছে।

আবহাওয়া উপকেন্দ্রে কুমিল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তার মধ্যে সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। মূলত এ তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ভারী বর্ষণের সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, দুয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের অফিসিয়াল পেজে বলা হয়েছে, অতিবৃষ্টির ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এ দুর্ভোগ কমাতে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও জরুরি সেবাদানকারী দল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ দুর্যোগময় সময়ে সবার সহযোগিতা ও ধৈর্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *