ইংল্যান্ডের Peterborough শহরের একমাত্র হিন্দু মন্দির বিক্রিকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, Peterborough City Council তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত মন্দির ভবনটি United Kingdom Islamic Mission (UKIM)-এর কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে বিচারিক পর্যালোচনার (Judicial Review) আবেদন করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাষ্য, প্রায় ৪০ বছর ধরে মন্দিরটি পূর্ব ইংল্যান্ডের হাজারো হিন্দুর ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ১৯৭২ সালে Idi Amin-এর শাসনামলে উগান্ডা থেকে বিতাড়িত হিন্দু পরিবারগুলোর উদ্যোগে এই মন্দিরের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এটি কেমব্রিজশায়ার, নরফোক ও লিংকনশায়ার অঞ্চলের প্রায় ১৪ হাজার হিন্দুর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
মন্দির প্রাঙ্গণের কমিউনিটি সেন্টারে নিয়মিত ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, যোগব্যায়াম, স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, গুজরাটি ও হিন্দি ভাষা শিক্ষা এবং প্রবীণদের জন্য লাঞ্চ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং পুরো হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র।
মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলের সঙ্গে ভবনটি কেনার বিষয়ে আলোচনা করে আসছিলেন এবং প্রায় ১৩ লাখ পাউন্ডে সম্পত্তিটি কেনার বিষয়ে সমঝোতার আশা করেছিলেন। তবে পরে তারা জানতে পারেন, ভবনটি United Kingdom Islamic Mission (UKIM)-এর কাছে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, পিটারবরো শহরে বর্তমানে নয়টি মসজিদ রয়েছে। ২০২১ সালের জনশুমারি অনুসারে শহরের প্রায় ১২.২ শতাংশ বাসিন্দা মুসলিম এবং ১.৮ শতাংশ হিন্দু।
মন্দির রক্ষার দাবিতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনুদানের মাধ্যমে প্রায় ৮৬ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করেছে হিন্দু সম্প্রদায়। এই অর্থ দিয়ে তারা লন্ডনের রয়্যাল কোর্টস অব জাস্টিসে বিচারিক পর্যালোচনার আবেদন করেন। তাদের আইনজীবীদের দাবি, কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত Equality Act 2010-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং মন্দির বন্ধ হয়ে গেলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
অন্যদিকে, United Kingdom Islamic Mission (UKIM) জানিয়েছে, তাদের বর্তমান মসজিদ ভবনটি প্রয়োজনের তুলনায় ছোট হয়ে পড়েছে, ফলে নতুন জায়গার প্রয়োজন রয়েছে।
মন্দিরের নেতারা জানিয়েছেন, কাউন্সিল বিকল্প স্থানের কথা বললেও কার্যকর ও উপযুক্ত কোনো প্রস্তাব এখনো দেওয়া হয়নি। তাদের মতে, এটি একটি স্থায়ী উপাসনালয় এবং বহু বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সম্প্রদায়ের পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। তাই ভবনটি হারালে শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং একটি ঐতিহাসিক ও সামাজিক কেন্দ্রও হারিয়ে যাবে।
মন্দিরের স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই কেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে গেলে আশপাশের বহু পরিবার, প্রবীণ ও শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি পূর্ব ইংল্যান্ড অঞ্চলে হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রও বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
বর্তমানে বিষয়টি আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে। মামলার চূড়ান্ত রায়ের দিকেই তাকিয়ে আছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়।