সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার পল্লীতে মোবাইলে ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইল করে কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।
গ্রেফতারকৃত মোস্তাফিজুর রহমান (৩৪) উপজেলার চরশ্রীপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। সে পেশায় একজন মুদিদোকানী।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সে তাদের বাড়ির পাশে প্রতিবেশী মুদি দোকানী মোস্তাফিজুরের কাছে খাবার কেনার জন্য যায়। এসময় মোস্তাফিজুর তাকে বিবাহ করবে বলে প্রতিশ্রুতি ও প্রলোভন দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করতে চাইলে এতে সে রাজি না হওয়ার একপর্যায়ে সেখানে কোন লোকজন না থাকার সুযোগে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দোকান ঘরের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তার ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার ও মোস্তাফিজুরকে দোকান ঘরের মধ্যে আটকে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মোস্তাফিজুরকে আটক করে।
ভুক্তভোগী ওই স্কুল ছাত্রীর মা জানান, মোস্তাফিজুর ইতোপূর্বেও তার মেয়েকে ফুসলিয়ে ও বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে এবং ধর্ষণের বিষয়ে কাউকে কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এমনকি ধর্ষণের ঘটনা মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে করে তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার সাথে ব্লাকমেইলে করে আসছিল। যা ভয়ভীতির কারণে সে প্রকাশ করতে পারেনি। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই ওই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।