নগরীর রেলওয়ে স্কুলে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪

নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠ সংলগ্ন রেলওয়ে পাবলিক হাই স্কুলে চুরির অভিযোগে মো. জয়নাল (২৭) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রোববার ও সোমবার এই ২ দিনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার (২১ জুন) সকালে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়। পরে নিহতের পরিবারের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পরদিন আজ সোমবার ভোররাতে অভিযান চালিয়ে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামিই বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

এর আগে, রবিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে স্কুল প্রাঙ্গণে জয়নাল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। সে নগরীর ধনিয়ালাপাড়ার ছোট মসজিদ বাই লেন এলাকার বাসিন্দা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি একটি গাড়ির পেইন্টিংয়ের দোকানে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় নিহতের মা ছেনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— সমীর দাশ (৪৭), আব্দুস সামাদ আজাদ (২৯), জিগার দাস (১৯) এবং মো. জাফর আহমেদ (৪৮)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষের পেছনের জানালার গ্লাস খুলে গ্রিলের ফাঁক দিয়ে কম্পিউটার চুরির চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ করেন স্কুলের প্রহরী সমীর দাশ। এ সময় জয়নালকে হাতেনাতে ধরে ফেলা হয়। পরে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে স্কুলের মূল ফটকের সামনে ফেলে রাখা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জয়নালকে দীর্ঘ সময় ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি তাকে বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়। পরে অসুস্থ অবস্থায় গেটের বাইরে ফেলে রাখা হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক পুলিশকে কল দিলে তারা জয়নালের অবস্থা দেখে নেয়নি। পরবর্তীতে জয়নালের মৃত্যুর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত স্বজনরা পুলিশের গাড়িতে মরদেহ তুলতে বাধা দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

নিহতের মা ছেনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে অপরাধ করে থাকলে আইনের হাতে তুলে দেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে পিটিয়ে ও কারেন্টের শক দিয়ে হত্যা করার অধিকার কারও নেই। আমি এই হত্যার বিচার চাই।’

কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূর বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর এজাহারভুক্ত চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।’

তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত রহস্য দ্রুত উদঘাটন করা হবে বলেও জানান ওসি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *