ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিল

২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচনে অংশ নিতে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানীর পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী সর্বোচ্চ ফোরাম সিন্ডিকেট। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে খবরের কাগজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী।
তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছিল গোলাম রব্বানী, বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তার জিএস পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিন্ডিকেট। এখন এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে, তা আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে।’
পদ বাতিল করা হলে শূন্য হওয়া ওই জিএস পদে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদ খাঁন পদ ফিরে পাবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতেই আইন উপদেষ্টা বরাবর পাঠানো হয়েছে, সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটি আমলে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম।
গত বছরের ২৬ নভেম্বর গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তির অভিযোগ প্রতীয়মান হওয়ায় তার এমফিল ভর্তি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৯ বছরের বিরতির পর ২০১৯ সালে ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টি পদেই নির্বাচিত হন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থীরা। অন্যদিকে ভিপি এবং সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদকের পদে জয়ী হয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ মনোনীত প্রার্থীরা।
এছাড়া জিএস পদে বিজয়ী হন বর্তমানে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি ভোট পান ১০ হাজার ৪৮৪। অন্যদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন কোটা আন্দোলনের নেতা রাশেদ খাঁন পান ৬ হাজার ৬৩ ভোট।
অবৈধ উপায়ে ভর্তি হয়ে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সব সদস্যের ডাকসুর সদস্যপদ বাতিলপূর্বক ভুক্তভোগী প্রার্থীদের মূল্যায়নে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে সংঘটিত নৃশংস হামলার ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে গত বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার দাবিতে আবেদন করে রাশেদ খাঁন। এর প্রেক্ষিতে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *