পতাকা বৈঠক ব্যর্থ : শিশুসহ ১২ জন এখনো শূন্যরেখায় - sanatanitv

পতাকা বৈঠক ব্যর্থ : শিশুসহ ১২ জন এখনো শূন্যরেখায়

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে সীমান্ত দিয়ে কথিত পুশইনের ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ ব্যক্তি এখনো সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক (সরকারি পরিচালক) নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার সুনিল কুমার ইয়াদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

বিজিবি জানায়, বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিতেও অস্বীকৃতি জানায়। এ অবস্থায় বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি সময় চেয়ে তদন্ত করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাতে চায়। ফলে আপাতত ওই ১২ জনকে শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হচ্ছে।

পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বাথানপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াসেদ আলীর ছেলে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), বড় ছেলে শিহাদ (১৭), মেজো ছেলে ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ (২)। এছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। তারা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ।

স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নেন।

পুশইনকৃত ব্যক্তিদের দাবি, ভারতের কেরালা রাজ্যে তারা কাজ করতেছিলো। সেখান থেকে তাদের আটক করে বিএসএফ বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিজিবির অভিযোগ, বিএসএফের অসহযোগিতা ও গাফিলতির কারণে নির্ধারিত বৈঠকটি ভেস্তে যায়। ফলে ১২ জনকে সীমান্ত এলাকায় রাত কাটাতে হয়।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি কালবেলাকে বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সময় চেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।