যশোরে এক্সিম ব্যাংকে গ্রাহকদের বিক্ষোভ, ছয় মাসেও ফেরত মেলেনি ৭২ লাখ টাকা - sanatanitv

যশোরে এক্সিম ব্যাংকে গ্রাহকদের বিক্ষোভ, ছয় মাসেও ফেরত মেলেনি ৭২ লাখ টাকা

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: জুন ১০, ২০২৬

ফিক্সড ডিপোজিটের (এফডিআর) মেয়াদ শেষ হওয়ার ছয় মাস পার হলেও আমানতের টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে যশোরে এক্সিম ব্যাংকের হাটখোলা রোড শাখার সামনে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহকরা। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে যশোর জেলা হার্ডওয়্যার মালিক সমিতির সদস্যরা ব্যাংকটির সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সমিতির ১১০ জন সদস্য তাদের কষ্টার্জিত অর্থ এক বছর মেয়াদে ব্যাংকটিতে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে জমা রেখেছিলেন। মেয়াদ শেষে মূলধন ও মুনাফাসহ তাদের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৭২ লাখ ৩ হাজার টাকা। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘ ছয় মাস অতিবাহিত হলেও তারা সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাননি। বরং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে টাকা পরিশোধে বিলম্ব করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, ব্যবসা পরিচালনা, পণ্য ক্রয় এবং অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে তারা এফডিআরের টাকা ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও টাকা না পাওয়ায় তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ব্যবসায়িক লেনদেন ব্যাহত হওয়া, দেনা পরিশোধে সমস্যাসহ নানা জটিলতার মুখে পড়েছেন।

যশোর জেলা হার্ডওয়্যার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী খান বলেন, আমাদের সদস্যরা সঞ্চয় ও লাভের টাকা ব্যাংকে রেখেছিলেন নিরাপদ বিনিয়োগের আশায়। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টাকা পাচ্ছেন না। বারবার ব্যাংকের দ্বারস্থ হলেও শুধু আশ্বাস মিলছে। এখন কিস্তিতে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এফডিআরের মূল উদ্দেশ্যই হলো মেয়াদ শেষে পুরো অর্থ একসঙ্গে পাওয়া।

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকে টাকা রাখার পর যদি গ্রাহককে নিজের টাকার জন্য আন্দোলনে নামতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থা কোথায় থাকবে? আমরা দ্রুত পুরো অর্থ পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।

বিক্ষোভ চলাকালে গ্রাহকদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখেই তারা টাকা জমা রেখেছিলেন। এখন সেই টাকা তুলতে গিয়ে তাদের বারবার ঘুরতে হচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ে টাকা না পাওয়ায় তারা ব্যবসায়িক সুযোগ হারিয়েছেন এবং ব্যক্তিগত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এক্সিম ব্যাংক হাটখোলা রোড শাখার ব্যবস্থাপক তরিকুল ইসলাম জানান, আগে এক্সিম ব্যাংক মালিকানাধীন ছিলো। এখন তা সরকারী হয়েছে । বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রাহকদের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা অনুসরণ করেই দুই দফায় টাকা পরিশোধ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে আমরা গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।