টাঙ্গুয়ার হাওরে পরিবেশ নষ্টের অভিযোগে ৬ হাউসবোটকে জরিমানা

সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরের সংরক্ষিত কোর জোনে পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ৬টি মিনি হাউসবোটকে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রবিবার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা অভিযান চালিয়ে তাদের জরিমানা করা হয়।

অভিযুক্ত হাউসবোটগুলো পর্যটকদের নিয়ে উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে, নেচে-গেয়ে হাওরের সংরক্ষিত কোর জোনে শব্দদূষণ করছিল। এ সময় ১৪টি সাউন্ড বক্সও জব্দ করে প্রশাসন।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিকের কাছে স্থানীয় লোকজন হাওরের কোর জোনে পর্যটকদের পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম ও উৎপাতের খবর পাঠান। খবর পেয়ে তিনি রবিবার দুপুরে হাওরে স্থানীয় ওসি আমিনুল ইসলামসহ পুলিশ ও আনসার নিয়ে অভিযানে নামেন।

অভিযানের খবর পেয়ে অনেক হাউসবোট দ্রুত কোর জোন ছেড়ে বাইরে চলে আসে। তবে এ সময় ছোট ৬টি হাউসবোটকে পেয়ে সেগুলোকে সর্বমোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তবে বড় হাউসবোটগুলো কৌশলে কোর জোনের বাইরে চলে আসে।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার আওতাভুক্ত সংরক্ষিত এলাকা।

নির্দিষ্ট এলাকায় পরিবেশ পুনরুদ্ধারের স্বার্থে সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। এটাকে ‘কোর জোন’ আওতাভুক্ত করে নজরদারিতে রাখা হয়। কিন্তু সংরক্ষিত এই এলাকায় বর্ষা মৌসুমে হাউসবোটগুলো অবাধে প্রবেশ করে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বাজিয়ে হাওরের প্রাণ ও প্রকৃতির বিপুল ক্ষতি করছে। এতে বন্যপ্রাণী, স্থানীয় পাখি ও অতিথি পাখির আবাসস্থলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া অবাধে পর্যটন করায় পর্যটকরা প্লাস্টিকের অপচনশীল দ্রব্যও হাওরে ফেলে দিচ্ছে।

এসব অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৬টি বোটকে জরিমানা করা হয়। তাছাড়া পর্যটকদের জন্যও সতর্কতা জারি করে প্রশাসন।

 

হাওরপাড়ের গ্রাম জয়পুরের পরিবেশ সংগঠক আহমদ কবীর বলেন, প্রতিদিন কোর জোনে সাউন্ড সিস্টেম নিয়ে পর্যটকরা অবাধ যাতায়াত করছে। এতে জীববৈচিত্রের সঙ্গে আমরাও উৎপাতের মুখে পড়েছি। স্থানীয়রা ত্যক্ত, বিরক্ত ও ক্ষুব্দ। এসব অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজেই এসে অভিযান চালিয়েছেন। আমরা নিয়মিত প্রশাসনিক তদারকির দাবি জানিয়েছি।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান মানিক বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর রামসার আওতাভুক্ত পরিবেশ সংরক্ষিত এলাকা। হাওরের জীববৈচিত্র্যের স্বার্থেই সরকার কাজ করছে। কিছু অসচেতন পর্যটক সংরক্ষিত এলাকায় গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করছেন। যে কারণে আমরা অভিযান চালিয়ে ৬টি হাউসবোটকে জরিমানা করেছি। পর্যটকদেরও এমন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। অভিযান নিয়মিত চলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *