সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: মনদ্বীপ মন্ডল।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি হিন্দু পরিবারের ওপর পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি পিটুনি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একই পরিবারের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলেন— গীতা রানী গাইন, রণজিৎ গাইন, শিবপদ গাইন, ধর্মদাস গাইন, বিষ্ণুপদ গাইন, রবীন্দ্রনাথ গাইন, অনিমেষ গাইন, ইন্দ্রজিৎ গাইন, সুরেন গাইন ও কৌশল্যা গাইন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গীতা রানী গাইন জানান, দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী মথুরাপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ পাইকের সঙ্গে তাদের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষ তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। এরই জেরে বুধবার সকালে নিজেদের জমিতে গরু চরাতে গেলে আব্দুল মজিদ পাইক ও তার ছেলে চোরাকারবারি হাসান পাইকসহ কয়েকজন তাদের বাধা দেয়।
একপর্যায়ে কথা কাটাকাটির সময় হামলাকারীরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং গীতা রানী গাইনের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকার শুনে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এলে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাদের ওপরও হামলে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল মজিদ পাইক, হাসান পাইক, হোসেন পাইক, জাহিদ হোসেন বাবু, বিল্লাল হোসেন, খুকুমনি, মিলন পাইকসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে আহত করে। এ সময় হামলাকারীরা একটি স্মার্টফোনও ছিনিয়ে নেয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য দেবাশীষ গাইন এ ঘটনাকে “চরম ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত হামলা” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “একটি নিরীহ পরিবারের ওপর পরিকল্পিতভাবে এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ খালিদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় রণজিৎ গাইন বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য যে, মামলা/অভিযোগ/স্মারক নং-২১৭৬/১(৩) তারিখ: ২৮/০৫/২০২৬
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও গভীর হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
