বাবা আওয়ামী লীগ করায় বরিশালে ১৯ বছরের তরুণীকে সরাসরি ধ*র্ষ*ণ! ছেঁড়া জামা হাতে আগৈলঝাড়া থানায় ভুক্তভোগী

বরিশাল: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার পয়সার হাট এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার এক চরম নারকীয় ও পৈশাচিক ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার জেরে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজপড়ুয়া তরুণীকে সরাসরি ও নৃ*শংসভাবে ধ’র্ষ’ণ করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ইতিমধ্যেই ‘বেঙ্গলি জার্নাল’-এর হাতে আসা একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, নির্যাতিত ওই নিরিহ মেয়েটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার ওপর হওয়া ধর্ষণের আলামত ও পৈশাচিকতায় ছিঁড়ে যাওয়া জামা পুলিশ প্রশাসনের সামনে তুলে ধরছেন। হাতজোড় করে কেঁদে কেঁদে বারবার বলছেন, “স্যার, দেখুন আমার ওরা কী অবস্থা করছে!” অবুঝ এক তরুণীর এই বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে থানা প্রাঙ্গণ।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি ১৯ বছরের মারজিয়া
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, ধর্ষণের শিকার ১৯ বছর বয়সী তরুণী মারজিয়া আক্তার পয়সার হাট এলাকার স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোজাম্মেল হোসেনের মেয়ে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাদের পরিবারটি বিভিন্ন মহলের রাজনৈতিক চাপ, হুমকি ও চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছিল।
অভিযোগ উঠেছে, গত শনিবার রাতে কাজী মোজাম্মেল হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয়কে টার্গেট করে একদল স্থানীয় দুর্বৃত্ত বাড়িতে হানা দেয়। তারা পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে মারজিয়াকে তার নিজ ঘরেই সরাসরি ধ*র্ষ*ণ করে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এলে ধর্ষকেরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
থানায় ধর্ষণের আলামত প্রদর্শন, ধর্ষকদের ধরতে পুলিশের চিরুনি অভিযান
ঘটনার পর পরই রোববার ভুক্তভোগী তরুণী নিজে উপস্থিত হয়ে বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এ সময় নির্যাতনের শিকার তরুণী নিজেই ওসির সামনে তার ছেঁড়া জামা ও ধর্ষণের সরাসরি আলামত প্রদর্শন করে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করেন।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার তীব্রতা ও সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভুক্তভোগী তরুণীর ধর্ষণের অভিযোগটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এজাহারভুক্ত করেছি। মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা (Medical Test) ও ডিএনএ আলামত সংগ্রহের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। যে বা যারাই এই জঘন্যতম ধর্ষণের সাথে জড়িত, তাদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। দ্রুততম সময়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।”
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমান ২০২৬ সালের মে মাসেই দেশে শিশু ও তরুণীদের ওপর ধর্ষণের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নতার কারণে বা বাবার ওপর প্রতিশোধ নিতে পরিবারের মেয়েদের এভাবে টার্গেট করে ধর্ষণ করা দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং মানবিক মূল্যবোধের চরমতম অবক্ষয়কে নির্দেশ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *