চট্টগ্রামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার মৃত্যুর পর বিরল জাপানিজ এনসেফালাইটিস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্কিত নগরবাসী। উপসর্গ দেখে তিনি এই মশাবাহিত ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হয়েছিলেন বলে আশঙ্কা করেছিলেন চিকিৎসকরা। বিরল এ ভাইরাসটি নিয়ে গবেষণা চলছে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন।
এদিকে, চট্টগ্রাম মেডিকেলে এনসেফালাইটিস নিয়ে ছয় মাস আগের গবেষণায় শনাক্ত হয়েছিল ১৮ জন। তবে, বিরল জাপানিজ এনসেফালাইটিসে তিন বছরে তিনজন রোগীকে সনাক্ত করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন গবেষক। কিন্তু ভাইরাসটি শনাক্তে যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় বিপাকে চিকিৎসকরা।
সম্প্রতি বিরল রোগে মারা যান চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জাকিয়া সুলতানা জুথি। শিক্ষিকা মারা যাওয়ার জন্য কিউলেক্স মশার মাধ্যমে ছড়ানো জাপানিজ এনসেফালাইটিস রোগটিকে সন্দেহ করছেন চিকিৎসকরা।
এসব মশা বুনো শুকর ও পাখি থেকে ভাইরাস বহন করে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটায়। পরে তা মানুষের মস্তিষ্কে ছড়িয়ে রোগীকে দ্রুত কোমায় নিয়ে যায়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজী বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মাহাবুবুল আলম খন্দকার বলেন, এই ভাইরাসটা মশাবাহিত। মশাটা সাধারণত বি অথবা ওয়াটারবার্ড (জলচর পাখি বলতে এমন পাখিদের বোঝায় যারা তাদের জীবনের বেশিরভাগ সময় জলাশয় বা জলাভূমির আশেপাশে কাটায়) যে আমরা বলি ওগুলো থেকে আসে। ওগুলো থেকে মশা ইনফেক্টেড হয়। সেই মশা যদি মানুষকে কামড় দেয় তাহলে হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জ্বরের সাথে মাথাব্যথা বা খিঁচুনি যদি থাকে তাহলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। দ্রুত হাসপাতালে আসতে পারলে আমরা সহযোগিতা করতে পারব।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৭৫ জন রোগীর ওপর গবেষণা চালায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ। এর মধ্যে ১৮ জনের দেহে এনসেফালাইটিস ভাইরাস পাওয়া যায়। তবে, গত আড়াই থেকে তিন বছরে তিনজন বিরল জাপানিজ এনসেফালাইটিস রোগে আক্রান্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আসিফুল হক বলেন, হাজার হাজার ভাইরাস আছে। তারমধ্যে একটি ভ্যারিয়েন্ট হচ্ছে জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভাইরাস। সেই হিসেবে কিন্তু রোগটি খুবই আনকমন একটি রোগ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা যদি বিরল জাপানিজ এনসেফালাইটিস ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তাহলে এটিই প্রথম মৃত্যু। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সিটি করপোরেশনের টিম এ বিষয়ে গবেষণা ও সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যেহেতু এটা মশাবাহিত রোগ এবং এটা খুবই রেয়ার ডিজিজ (বিরল রোগ)। চট্টগ্রামে যদি হয়ে থাকে তাহলে এটা হয়তো প্রথম। এটা নিয়ে আরও গবেষণার দরকার আছে।
জ্বরের সঙ্গে খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়ার উপসর্গ দেখা দিলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলছেন চিকিৎসকরা।