ব্রিজ নয় যেন মরণফাঁদ, ১৬ বছর ধরে পারাপার

ব্রিজ আছে, নেই নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা। ভাঙা ব্রিজের ওপর সুপারি গাছ ফেলে তৈরি করা হয়েছে সাঁকো। সেই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ। সামান্য অসতর্ক হলেই পা পিছলে পড়তে হবে খালে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৬ বছর ধরে চলাচল করছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার মোতাহার নগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গণেশপুর এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নয়া ভাঙ্গানী খালের ওপর নির্মিত ১২ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজটি ২০০৯ সালে এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণের মাত্র এক বছরের মাথায়, ২০১০ সালের দিকে ব্রিজটির পূর্ব পাশ ও মাঝের অংশের স্লাব ধসে খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটি সংস্কার কিংবা নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ব্রিজটির ভাঙা অংশ দিয়ে চলাচলের কোনো উপায় না থাকায় পূর্ব পাশ ও মাঝখানে সুপারি গাছ ফেলে সাঁকো তৈরি করেছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে পশ্চিম পাশে কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে মই। এভাবেই কোনোমতে পারাপার হচ্ছেন তারা। ব্রিজটির ওপর দিয়ে কেউ হাঁটলেই সেটি থরথর করে কাঁপতে থাকে। ইতোমধ্যে ব্রিজ থেকে খালে পড়ে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের অনেকে আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই ব্রিজ পার হতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী শান্ত, পঞ্চম শ্রেণির আব্দুল্লাহ ও চতুর্থ শ্রেণির ইব্রাহিমরা এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করে। তারা জানায়, ব্রিজটি দিয়ে পার হওয়ার সময় তাদের খুব ভয় লাগে। মনে হয়, এই বুঝি ব্রিজটি ভেঙে খালে পড়ে যাবে। তাদের মতো এলাকার সব শিক্ষার্থীকেই প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে এই ব্রিজ পার হতে হয়।

ব্রিজ নয় যেন মরণফাঁদ, ১৬ বছর ধরে পারাপার

স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মাতাব্বর নামে একজন বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের এক বছরের মাথায় পূর্ব পাশ ও মাঝের অংশ ভেঙে খালে পড়ে যায়। পশ্চিম পাশের অংশটি এখন রাস্তার তুলনায় অনেক উঁচু। ফলে সুপারি গাছ ফেলে কোনোমতে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্রিজের ওপর মানুষ উঠলেই সেটি কাঁপতে থাকে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই জরাজীর্ণ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, আশপাশের কয়েক গ্রামের শত শত মানুষ প্রতিদিন এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করেন। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে এ পথে অটোরিকশাসহ কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অসুস্থ রোগী, বয়োবৃদ্ধ ও গর্ভবতী নারীদের। জরুরি প্রয়োজনে কাউকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিতে হলে বাঁশ দিয়ে পালকি তৈরি করে বাজার পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। এতে রোগীর স্বজনদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের (বীরবিক্রম) সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ওই ব্রিজটিসহ উপজেলার জরাজীর্ণ ব্রিজগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি সংস্কার অথবা নতুন করে নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *