মিরপুরে হিন্দু নারী রীতা রানীর বাড়িতে ঢুকে নির্যাতনের অভিযোগ, অভিযুক্তের তালিকায় রাজনৈতিক নেতার নাম
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর মিরপুরে শ্রীমতী রীতা রানীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁর ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ উঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের মিরপুর থানা আহ্বায়ক ফিরোজের নামও অভিযোগের সঙ্গে উঠে এসেছে।
তবে ঘটনাটিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে পুলিশের একজন ওসির বিরুদ্ধে ওঠা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ রয়েছে, ওই কর্মকর্তা ভুক্তভোগী নারীর সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘নারীর সৌন্দর্যই তাঁর কাল, বোরকা পরলে এমন হতো না।’ যদিও এ বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় নারী নির্যাতনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দায়ী করার মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন নারী হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্য কিংবা দেখতে সুন্দর—কোনো কারণেই তাঁর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার কমে যেতে পারে না।
নারীর পোশাক কখনো নির্যাতনের কারণ বা অপরাধের অজুহাত হতে পারে না। বোরকা, শাড়ি কিংবা অন্য যেকোনো পোশাক পরা নারীর সমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। অপরাধের দায় অপরাধীর, ভুক্তভোগীর নয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক প্রভাব যেন বিচারপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, রীতা রানীর ওপর নির্যাতনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা এবং পুলিশের কোনো কর্মকর্তার পক্ষ থেকে দায়িত্বহীন মন্তব্য করা হয়ে থাকলে সেটিরও যথাযথ তদন্ত করতে হবে।
বাংলাদেশে প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। দলীয় পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভ—কোনোটিই আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না।