‘চাঁদাবাজি বন্ধ কর, আমি তুফান’, ৮ পিস্তল নিয়ে যুবকের হুমকি

চট্টগ্রামের রাউজানে আটটি বিদেশি পিস্তল সামনে রেখে হুমকি দেওয়ার ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে অস্ত্রগুলো দেখিয়ে এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘খেলা দেখছো কোথায়, ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি।’ এ ছাড়া ভিডিওটির সাথে দেওয়া পোস্টে অস্ত্রগুলোকে ‘মরণের টিকিট’ উল্লেখ করে হুমকির বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে।

ভিডিওতে থাকা যুবককে হৃদয় ওরফে বুলেট হৃদয় হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তিনি রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার বাদশার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি দক্ষিণ রাউজানের ফজল হক বাহিনীর মো. মামুনের সহযোগী হিসেবে পরিচিত বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে কাপড়ের ওপর সাজানো একাধিক পিস্তল দেখা যায়। পোস্টে অস্ত্রগুলো অবৈধ এবং থানা থেকে লুট হওয়া বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি হৃদয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগও তোলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘সময় থাকতে পালিয়ে যাও, আমি তুফান।’ অস্ত্রগুলো দেখিয়ে দেওয়া এসব বক্তব্য কাকে উদ্দেশ করে বলা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে ভিডিও প্রকাশের পর রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সাথে ওই যুবককে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বুধবার সকালে বলেন, ‘ভিডিওটি আমাদের চোখে পড়েছে। আমরা যাচাই-বাছাই করছি। হৃদয় বুলেট নামে ওই ব্যক্তিকে আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে জেল থেকে বের হয়ে যান।’

জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, ভিডিওটি যাচাই করা হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত দুই বছরে একের পর এক হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ, রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাউজান দেশের আলোচিত সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। অস্ত্রধারীদের তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নতুন করে আটটি পিস্তল প্রদর্শনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *