পাবিপ্রবিতে বাস থেকে পড়ে ছাত্রী আহত, নিরাপত্তায় নতুন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বিআরটিসি বাস থেকে নামতে গিয়ে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিষা। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ সাত দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষের বৈঠকে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাস থেকে শহরের মুক্তমঞ্চ এলাকায় কয়েকজন ছাত্রী নামছিলেন। এ সময় মনিষা বাস থেকে নামার আগেই চালক হঠাৎ বাসটি দ্রুতগতিতে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তার মাথা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে দ্রুত তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে এসোর্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তার মাথায় সাতটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সাময়িকভাবে বাস চলাচল বন্ধ রাখেন এবং সাত দফা দাবি তুলে ধরেন।
ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিআরটিসির আঞ্চলিক চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন বিআরটিসির উপমহাব্যবস্থাপকসহ (ডিজিএম) চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকে বাস পরিচালনা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বাসচালককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবসংক্রান্ত চিঠি দিয়েছে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বুধবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসগুলোতে চালকের পাশাপাশি সহকারী (হেলপার) নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চালক ছাড়া অন্য কাউকে দিয়ে বাস চালানো যাবে না বলেও সিদ্ধান্ত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *