এই কান্না শুনিবে কে : বাংলাদেশে বিগত আট মাসে ৭০ জন সংখ্যালঘুর মৃতু, নিরাপত্তা ও ন্যায় বিচার নিয়ে উ

দেবব্রত সরকার, গবেষক ও উন্নয়ন কর্মী
বাংলাদেশে ইং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮ মাসে ৭০ জন সংখ্যালঘু নিহত হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান “সনাতনী রিসার্স এন্ড আইটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার” নামক একটি প্রতিষ্ঠান এমন দাবী করেছে। সংস্থাটি তাদের অনলাইন জরিপের মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে দাবী করেন। সেমতে তথ্যসূত্রও তারা উল্লেখ করেছেন। বর্তমান সময়ে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মৃত্যু, হামলা, মন্দির ভাংচুর ও বসত বাড়িতে হামলা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি?
একজন মানুষের মৃত্যু মানে একটি পরিবারের আশ্রয় হারানো, সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়া, বৃদ্ধ পিতা মাতার শেষ ভরসা টুকু হারিয়ে যাওয়া। কোন ব্যক্তি ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে, ব্যক্তিগত বিরোধে, জমিজমা নিয়ে বিরোধে বা অন্য কোন অপরাধে মারা গেলে- প্রতিটি ঘটনারই নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ তদন্ত হওয়ায় জরুরি। ন্যায় বিচার হওয়ায় অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। সংখ্যালঘু হত্যাকান্ড গুলো সুষ্ঠ তদন্ত হয় না। বিচার প্রক্রিয়া হয় দীর্ঘতর। ফলে ন্যায় বিচার হয় বিঘ্নিত। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেহ হত্যাকান্ডের শিকার হলে তা ধর্মীয় পরিচয়ে যেন তদন্তের পথে বাধা না হয়। একই ভাবে কেবল মাত্র ভুক্তভোগীর ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোন অপরাধকে সাম্প্রদায়িক বলে চিহ্নিত না করে ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। ন্যায় বিচারের ভিত্তি হতে হবে প্রমাণ, সুষ্ঠ তদন্ত ও আইনের সঠিক প্রয়োগ।
প্রতিটি খুনের ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত কারণ প্রকাশ করতে হবে। অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, রাজনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। মন্দির, উপাসনালয়, বসতবাড়িসহ সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জমি ও সম্পদ দখল, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত সংক্রান্ত অপরাধগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ব্যাপারে মানবাধিকার সংগঠন সমূহ, গণমাধ্যম ও সরকারি বেসরকারি সংস্থার তথ্য যাচাই বাছাই করে নিয়মিত স্বচ্ছ পরিসংখ্যান প্রকাশ করতে হবে।
বাংলাদেশের প্রতিটি সংখ্যালঘু নাগরিকের জীবন, মর্যদা ও নিরাপত্তা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ন। সংখ্যালঘু পরিবারের স্বজন হারানোর বেদনা যে কোন পরিসংখ্যানের মধ্যে হারিয়ে না যায়। প্রতিটি মৃত্যুর সত্য উদঘাটন, দায়ীদের বিচার ও ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা উচিত রাষ্ট্র ও সমাজের।
যে পরিবার তার প্রিয়জনকে হারিয়েছে তারা কবে পাবে ন্যায় বিচার ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *