‘উড়াল দেব আকাশে…’ ফেসবুকে এমন একটি রহস্যঘেরা স্ট্যাটাস দেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন পটুয়াখালী সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার (৩৮)। এ ঘটনায় পরিবার, স্বজনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাত সাড়ে ৭টার দিকে পটুয়াখালী-লোহালিয়া সেতু এলাকায় শহিদুলকে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকেই আর খোঁজ মিলছে না তার। নিখোঁজের ঘটনায় শহিদুলের মামা মো. সোহরাব হোসেন পটুয়াখালী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান। তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শহিদুলকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শহিদুল ইসলাম জোমাদ্দার মৃত রোশন আলী জোমাদ্দারের ছেলে। মাত্র ছয় মাস আগে তিনি বিয়ে করেন। তবে নানা কারণে এখনো নববধূকে নিজ বাড়িতে তোলা হয়নি। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি শহরের সবুজবাগ এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে যান। সেখানে স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই সময় কাটান।
ফেরার পথে মায়ের জন্য ওষুধও কিনে আনেন শহিদুল। এরইমধ্যে তার হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না পরিবারের সদস্যরা। তার চাচাতো ভাই আরিফ হোসেন জানান, বাসায় ফিরে তিনি পরিচিত মোটরসাইকেলচালক বাবুকে ফোন করে ডাকেন। এরপর নিজের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন চার্জে রেখে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরিবারের ধারণা, ফেসবুকে রহস্যময় স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই তিনি বের হন।
মোটরসাইকেলচালক বাবুর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শহিদুল রাত সাড়ে ৭টার দিকে লোহালিয়া সেতুর ঢালে নেমে তাকে ১০০ টাকা ভাড়া দিয়ে বিদায় দেন। এরপর থেকেই যেন অন্ধকারে মিলিয়ে যান তিনি।
শহিদুলের মামা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘সর্বশেষ স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সে বিপুল ভোটে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। এলাকায় তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ছিল। কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। পারিবারিক জীবনেও কোনো জটিলতা ছিল না। এমন একটি ছেলে হঠাৎ কোথায় চলে যাবে?’
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শহিদুল ছিলেন ভদ্র, নম্র ও সবার প্রিয় একজন মানুষ। তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে শোক আর উদ্বেগের ছায়া। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দ্রুত সন্ধান কামনা করে পোস্ট দিচ্ছেন।
