আমি জামায়াত ইসলামী করার কারণে ভাঙচুর করা হয় বাড়িঘর, পিটিয়ে ভাঙা হয় মায়ের হাত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য (সদর ও কচুয়া) শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।
তিনি বলেছেন, ‘আমার মাকে পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়া হবে, এটা কীভাবে মেনে নেব? হাত ভাঙার পরও মা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি। হাসপাতালে প্রশাসনের পাহারা থাকায় কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি।’
সম্প্রতি মিডিয়া বিডির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে এসব কথা বলতে শোনা যায়।
শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, “আমি সংবাদ পেলাম, প্রশাসনের মারধরে আমার মায়ের ডান হাত ভেঙে গেছে। খবরটি শুনে আমার ভেতরে একধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। আমি ইসলামী আন্দোলন করি, সংগঠন করি, নেতৃত্ব দিই—এসবের কারণে আমার বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সবকিছু শেষ করে দেওয়া হয়েছে। সেসব মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমার মাকে পিটিয়ে তার হাত ভেঙে দেওয়া হবে, এটা কীভাবে মেনে নেব? হাত ভাঙার পরও মা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারেননি। হাসপাতালে প্রশাসনের পাহারা থাকায় কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি।”
তিনি বলেন, “একপর্যায়ে মনে হলো, এটাই হয়তো আমার পথচলার শেষ। হয়তো সামনে আর এই পথে চলা সম্ভব হবে না। কারণ, যে সন্তানের রাজনৈতিক পথচলার কারণে তার মায়ের হাত ভেঙে দেওয়া হয়, সেই সন্তানকে কি আর মা ওই পথে চলতে দেবেন? হয়তো দেবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “মায়ের খোঁজখবরও নিতে পারছিলাম না। কারণ, তখন এমন পরিস্থিতি ছিল যে আমাকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই মেরে ফেলা হতে পারে। মায়ের কাছে যাওয়ারও সাহস পাচ্ছিলাম না। হাত ভাঙা অবস্থায় মা খুলনায় চিকিৎসা নিয়েছেন, পরে বাড়িতে ফিরেছেন। অথচ মায়ের একটু খোঁজ নেব, তাঁর সঙ্গে কথা বলব—সেই সুযোগটুকুও আমার ছিল না।”
জামায়াত এমপি বলেন, “এসব ভেবে নিজের ভেতরে অপরাধবোধ কাজ করত। মায়ের সামনে গিয়ে কী বলব, তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। অনেক দিন পর সাহস সঞ্চয় করে এক রাতে মায়ের কাছে গেলাম। দেখলাম, মা মশারির ভেতরে শুয়ে আছেন। ভয়ে ভয়ে তাঁর কাছে গিয়ে বললাম, ‘মা, আপনি তো অনেক কষ্ট পেয়েছেন, তাই না? আজ আমার কারণে আপনার হাত ভেঙে দিয়েছে। আপনার অনেক কষ্ট হয়েছে। নিশ্চয়ই আমাকে আর জামায়াতে ইসলামী করতে দেবেন না। মনে মনে যদি আমাকে অভিশাপ দিয়ে থাকেন, সেটাও আমি বুঝতে পারি।”
তার মাকে নিয়ে তিনি বলেন, “অনেক দিন পর আমাকে কাছে পেয়ে মা জড়িয়ে ধরলেন। কেঁদে ফেললেন। এরপর বললেন, ‘বাবা, বিশ্বাস করো, আমার একটুও কষ্ট মনে নেই। যেদিন পিটিয়েছিল, সেদিন একটু কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু পরে যখন মানুষের কাছে জানতে পারলাম, আমার সন্তান কোনো অপরাধ করেনি; শুধু জামায়াতে ইসলামী করার কারণে আমার ছেলে অত্যাচারের শিকার হয়েছে এবং তার প্রভাব আমার ওপরও পড়েছে, তখন আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে। আমার অসহায় অবস্থায় সংগঠনের লোকজন যেভাবে খোঁজখবর নিয়েছে, তাতে আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।”
শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, “আমি ভেবেছিলাম, আমি সংগঠন করি বলে মা হয়তো আর কোনো দিন আমাকে সমর্থন করবেন না। কিন্তু আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে আমার আম্মা জামায়াতে ইসলামীর রুকনিয়তের শপথ গ্রহণ করেছেন।”