এমবিবিএস চিকিৎসকের নাম-প্যাডে ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসক আটক

হবিগঞ্জ শহরের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে আরিফ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে এসআরবি-৯-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল। নিজেকে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে অন্য এক চিকিৎসকের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে জালিয়াতির তথ্য পাওয়া যায়।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হবিগঞ্জ শহরের মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন এসআরবি-৯-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোশাররফ। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদরুন বিন আকন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. শরীফ সানজিদ জামান উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান চলাকালে ডা. মীর মাহবুবুর রহমানের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার সময় আরিফ মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও অন্যান্য নথি যাচাই করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক যাচাইয়ে তার দাখিল করা কাগজপত্রে জালিয়াতির তথ্য পাওয়া যায়।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাদরুন বিন আকন জানান, আরিফ মিয়া আল্ট্রাসনোগ্রাফি বিশেষজ্ঞ ডা. মীর মাহবুবুর রহমানের নাম ও প্যাড ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ শহরের মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসক না হয়েও অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবস্থাপত্র দেওয়া আইনবিরোধী এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি না দিয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরিফ মিয়ার বাড়ি টাঙ্গাইল শহরে বলে জানা যায়।
এসআরবি-৯-এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মোশাররফ জানান, আরিফ মিয়াকে শনাক্ত করতে কয়েক দিন ধরে চেষ্টা চলছিল। পরে রবিবার সন্ধ্যায় মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তিনি এমবিবিএস ডিগ্রিধারী নন। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায়ও একই ধরনের প্রতারণার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্যাপ্টেন মোশাররফ আরও বলেন, “এ ঘটনায় মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, অভিযানের খবর পেয়ে মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষ ও ব্যবস্থাপক সেখান থেকে চলে যান বলে জানা যায়। তাদের কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চিকিৎসকের পরিচয় ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই না করে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *