ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস করার দাবি করে তিনি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য এখন কাকে পাওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
একই সঙ্গে তিনি ইরানকে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না বলে আবারও হুঁশিয়ারি দেন।
ট্রাম্প বলেন, “ইরানের নেতাদের হত্যা করা বন্ধ করতে হবে। কারণ, আমাদের বুঝতে হবে, আমরা আসলে কার সঙ্গে আলোচনা করছি।”
ইরানের নেতৃত্বে ধারাবাহিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির দাবি করে তিনি বলেন, “তাদের কোনও বিমান নেই, কোনও জাহাজ নেই, কিছুই নেই- এমনকি কোনও নেতাও নেই। প্রথম সারির নেতা শেষ, দ্বিতীয় সারির নেতাও শেষ।”
ইরানের সামরিক বাহিনী ও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।
তবে তার বক্তব্যের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরমাণু চুক্তি বাতিলের পক্ষে অটল ট্রাম্প
বক্তব্যে ট্রাম্প ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তেরও পক্ষে যুক্তি দেন।
ওই চুক্তির আনুষ্ঠানিক নাম জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ)। চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
ট্রাম্প চুক্তিটিকে ‘এযাবৎকালের অন্যতম নিকৃষ্ট চুক্তি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে এগিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি ছিল এতে। তার দাবি, সঠিক সময়ে চুক্তিটি বাতিল করায় যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের বিপদ এড়াতে পেরেছে।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য দেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব অভিযানের মাধ্যমে ইরানের সামরিক, আর্থিক ও অন্যান্য সক্ষমতাও দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তার এই দাবির স্বাধীন যাচাই এই বক্তব্যে উপস্থাপন করা হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা সামরিকভাবে, আর্থিকভাবে এবং অন্যান্য দিক থেকেও তাদের পরাজিত করেছি। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, তারা যেন কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে।”
আলোচনা ও সামরিক চাপের দ্বৈত বার্তা
ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের ওপর সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আলোচনার জন্য কার্যকর নেতৃত্ব চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে। একদিকে তিনি ইরানের নেতৃত্ব ও সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি করছেন, অন্যদিকে আলোচনার জন্য কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা নির্ধারণের কথা বলছেন।
তবে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার সময়সূচি, আলোচনায় অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় কিংবা কোনও সমঝোতার শর্ত সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর অন্যতম। কিন্তু সামরিক অভিযান, নেতৃত্বের ওপর আঘাত এবং কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা- এই তিনটি বিষয় কীভাবে সমন্বিত হবে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও রূপরেখা পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল-জাজিরা