সমাজের নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা এমপি-মন্ত্রী হন: স্পিকার

সমাজের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তিরা সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হন, আর সবচেয়ে দুর্নীতিবাজরা নেতৃত্বে চলে আসেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। তিনি বলেছেন, সৎ ও ভালো মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। রাজনীতি করার উপযুক্ত পরিবেশও তৈরি করা সম্ভব হয়নি।

বুধবার ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্পিকার।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ইথিওপিয়ার তুলনায় বাংলাদেশ কোথায় চলে গেছে, তা ভেবে দেখতে হবে। দেশে সবচেয়ে বড় দুর্নীতিবাজরা সমাজের বড় নেতা হয়ে গেছেন। এ জন্য তিনি সাধারণ মানুষকে দোষারোপ করেননি; বরং সমাজব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভাষ্য, সৎ মানুষের রাজনীতি করার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে দেশের পরিস্থিতি বদলাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে মুক্ত হওয়ার পর আল্লাহর রহমতে দেশে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।

আয়নাঘরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একসময় আয়নাঘর সম্পর্কে মানুষ জানত না। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেখানে নির্যাতনকেন্দ্র থাকার বিষয়টি সামনে আসে। তাঁর অভিযোগ, সেখানে অনেক মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে এবং বিচারবহির্ভূতভাবে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্পিকার আরও বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানো এবং তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। এসব পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য মানুষ আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। শেখ হাসিনার ‘আওয়ামী লীগ পলায় না’ এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দলটির বর্তমান অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন স্পিকার।

নিজের সততার কথা তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে ছিলেন। তজুমদ্দিনে কেউ জমি বা ঘরবাড়ি দখল, হয়রানি কিংবা জুলুমের শিকার হলে প্রথমে স্থানীয় নেতাদের জানাতে বলেন তিনি। আর নেতারাই এসব কাজে জড়িত থাকলে তাঁকে সরাসরি জানানোর আহ্বান জানান।

স্পিকার বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি এখন দলের সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এবং নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করছেন। তজুমদ্দিনে কোনো ধরনের অপকর্ম, মাস্তানি বা চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টু। এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *