‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানে ভিডিও করে ভাইরাল সেই বিউটি জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

হালকা বাতাস। সেই বাতাসে আঁচল উড়িয়ে অল্প অল্প হাঁটছেন এক নারী। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয় গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’। গানের তালে হাঁটার ভিডিও করে ভাইরাল সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিঠাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রাণী পাল জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদের স্বাক্ষরিত এক স্মারকের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষকদের তথ্য বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাছাই করা শিক্ষকদের মধ্য থেকে এবার চারজনকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত করা হয়েছে।

শিক্ষক বিউটি রাণী পালের পাশাপাশি আরও তিন শিক্ষক শ্রেষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ।

তাদের মধ্যে বিউটি রাণী পাল ছাড়াও রয়েছেন- সিলেট সদর উপজেলার জহিরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন লস্কর, ওসমানীনগর উপজেলার আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরজাহান বেগম এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১ নম্বর চৌধুরীবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আদরী রানী দাস।

উল্লেখ্য, একটি ভিডিও ঘিরে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রাণী পাল আলোচনায় আসেন। গত ২৩ জুলাই তিনি ফেসবুকে কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে নীল শাড়ি পরে আঁচল উড়িয়ে হাঁটার ওই ভিডিওতে ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গানটি ব্যবহার করায় ট্রলের শিকার হন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া দেখান নেটিজেনরা। ভিডিওতে অশ্লীলতা ও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ তুলে একটি পক্ষ। সচেতন মহল নামে ওই পক্ষ আলোচনার সূত্রপাত করলেও সারাদেশের শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিকরা ওই শিক্ষকের পাশে দাঁড়ান।

এর প্রতিবাদে ওই গানটিকেই প্রতীকী প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সামাজিকমাধ্যমে অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। পরে দেশবাসী, পরিবার এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষক বিউটি রাণী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *