প্যারোলে মুক্তি পেলেন চিন্ময় দাস

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র শ্রীমৎ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।

চট্টগ্রামের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা তার ৫ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে পুণ্ডরীক ধামে গিয়ে দেখা যায়, চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধরের মরদেহ একটি অ্যাম্বুলেন্সে রাখা হয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সটি শ্যামকুণ্ডের পাশেই রাখা হয়েছে।

সেখানে স্বজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মী, সাধু-সন্ত ও ভক্তরা সমবেত হচ্ছেন। মরদেহ ঘিরে চলছে সমবেত কীর্তন। একদিকে মায়ের শেষযাত্রার প্রস্তুতি, অন্যদিকে ছেলের অপেক্ষা পুরো পুণ্ডরীক ধামজুড়ে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ।

চিন্ময়ের আগমনকে ঘিরে পুণ্ডরীক ধামে বাড়ছে মানুষের ভিড়। বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানাতে লোকজন আসছেন। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় পুণ্ডরীক ধাম এলাকায় বিপুল পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ ও এপিবিএনের সদস্যরাও। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এর আগে পুণ্ডরীক ধামের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।

‘চিন্ময় প্রভুর পাঁচ ঘণ্টার সময় যেন নষ্ট না হয়’

চিন্ময়ের যাত্রাপথ সম্পর্কে চট্টগ্রামের প্রবর্তক শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির পরিচালনা কমিটির অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস কালবেলাকে বলেন, ইতোমধ্যে চিন্ময় প্রভু আমান বাজার এলাকা পার হয়েছেন। পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছানোর পর তাকে স্নান করানো হবে। এরপর ভগবানের সামনে তাকে নেওয়া হবে এবং প্রার্থনা করা হবে।

চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণীর মরদেহের শেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, চিন্ময় প্রভু উপস্থিত হওয়ার পরই তার মাকে স্নান করানো হবে।

স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস বলেন, চিন্ময় প্রভুর পাঁচ ঘণ্টার সময় খুবই সংক্ষিপ্ত। আমাদের কারণে যেন তার এই সময়ের কোনো অংশ নষ্ট না হয়, সে জন্য সবাইকে অনুরোধ করছি। যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে তার মায়ের শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা নেতিবাচক ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সন্ধ্যা রাণী ধর জীবনের শেষ সময়ে ছেলে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে একবার দেখার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে দেখতে চিন্ময়ের প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে হাটহাজারীর শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামে মারা যান সন্ধ্যা রাণী ধর। এরপর তার মরদেহ সেখানেই রাখা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে মায়ের সৎকারে অংশ নিতে চিন্ময়কে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সে সময়ের মধ্যেই মায়ের মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *