চোখের সামনে পরিবারের সদস্যদের ভাসিয়ে নিয়ে গেছে

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পর স্বজন হারানোর বেদনায় কাতর হয়ে পড়েছেন বেঁচে যাওয়া মানুষজন। ধ্বংসস্তূপের মাঝে স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন অনেকে। কেউ হারিয়েছেন পরিবারের সদস্য, কেউ হারিয়েছেন ঘরবাড়ি ও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

নুওয়াকোট জেলার বাসিন্দা কল্পনা মাল্লা বিবিসিকে জানিয়েছেন, তার পরিবারের সদস্যদের চোখের সামনেই বন্যার পানিতে ভেসে যেতে দেখেছেন তিনি।

কল্পনা বলেন, তার বাবা, মা, বোন এবং বোনের সন্তানরা কেউই বন্যার পানির স্রোত থেকে বের হতে পারেননি। তার ভাষায়, ‘তারা বন্যা থেকে পালাতে পারেনি, কোনো সুযোগই ছিল না।’

প্রবল স্রোতে সবকিছু হারানোর পরও কল্পনা ও তার ছেলে একটি বাড়ির ছাদে উঠে প্রাণে বেঁচে যান। কীভাবে তারা বেঁচে গেছেন, সেটিও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না কল্পনা।

কল্পনার ছেলে সুগম মাল্লা জানান, তিনি মায়ের হাত ধরে টেনে তাকে নিরাপদে তুলেছিলেন। এরপরের ঘটনায় তিনি অবাক।

বোনকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুগম বলেন, ‘আমি চিন্তিত, হয়তো সেও বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।’

বন্যায় শুধু মানুষের প্রাণহানি নয়, ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষি ও গবাদিপশুরও। নুওয়াকোটের আরেক বাসিন্দা গোমা পণ্ডিত জানিয়েছেন, তার মহিষসহ সব গবাদিপশু ভেসে গেছে।

তিনি বলেন, তার কৃষিজমিও বন্যার পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ১০ বস্তা সরিষার বীজ, বিপুল পরিমাণ ভুট্টা ও ধান সবকিছুই পানিতে ভেসে গেছে। তার কথায়, ‘কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

নেপালের ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ এই বন্যা ও ভূমিধসে ইতোমধ্যে বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধারকারীরা নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেঁচে যাওয়া মানুষের এসব বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে দুর্যোগটির ভয়াবহতা, এক মুহূর্তের প্রবল স্রোতে কেউ হারিয়েছেন পুরো পরিবার, কেউ হারিয়েছেন ঘরবাড়ি, জমি ও বছরের পর বছর গড়ে তোলা জীবিকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *