যশোরে বিভিন্ন মানুষের জমি দখলের চেষ্টা, হয়রানি ও মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে শামসুদ্দীন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। এতে আনোয়ার হোসেনসহ ওই এলাকার জমি-সংক্রান্ত বিরোধে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বুধবার যশোর শহরের ইসমাইল কলোনি এলাকার ভুক্তভোগীদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি দেখানো এবং মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা ভূমিহীন পরিবার হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার মা খোদেজা বেগমের নামে ইসমাইল কলোনি এলাকায় ৫ শতক জমি বরাদ্দ পান। দাগ নম্বর ১৩৭৬, মৌজা নম্বর ৭৭-এর ওই জমিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সম্প্রতি ওই জমির মালিকানা দাবি করে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুধু আনোয়ার হোসেনের পরিবার নয়—বেজপাড়া, বকচর, মুড়লীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কয়েকটি পরিবারের জমি নিয়ে একই ধরনের বিরোধ ও দখলের চেষ্টা চলছে। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহল ভয়ভীতি দেখানো, মামলা ও হামলার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করছে। কারও কারও জমির কাগজপত্র নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র তৈরির অভিযোগও তোলা হয়।
তবে সংবাদ সম্মেলনে যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতাও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীরা বলেন, জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নথিপত্র যাচাই, সরেজমিন তদন্ত এবং আদালতের চলমান মামলাগুলো আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি কোনো পরিবার যাতে জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ চান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শতাধিক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা জমি দখলের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।