চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার হারামিয়া ইউনিয়নের এনামনাহার এলাকায় স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে নির্মিত দোকান জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৃত মনু চন্দ্র দাসের স্ত্রী বিধবা রাধা রানী দাস দোকানটি উদ্ধার এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সন্দ্বীপ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি)
করেছেন।
জিডিতে রাধা রানী দাস অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী মনু চন্দ্র দাস মারা যাওয়ার পর স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওপর নির্ভর করেই তিনি সংসার চালিয়ে আসছিলেন। অভাবের সংসারে কিছুটা স্বচ্ছলতা ফেরাতে তিনি ঋণ করে দোকানের ভিটেতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ওই দোকান ভাড়া দিয়ে যে আয় হতো, তা দিয়েই এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার চলত।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি রিমন দাস নামের এক ব্যক্তি ওই দোকানটি জবরদখল করে নেন। ফলে দোকান থেকে পাওয়া ভাড়ার আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন বিধবা রাধা রানী দাস। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে কোনোভাবে সংসার চালিয়ে আসা এই নারীর জন্য দোকানটির আয় ছিল অন্যতম প্রধান অবলম্বন বলে জানা গেছে।
রাধা রানী দাসের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন এবং নিজের অর্থ ও ঋণের মাধ্যমে দোকানের ঘর নির্মাণ করেছেন। কিন্তু দোকানটি দখল হয়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন তাঁর আয়ের পথ বন্ধ হয়েছে, অন্যদিকে দখলদারির ঘটনায় তিনি ও তাঁর সন্তানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ অবস্থায় দোকানটি দখলমুক্ত করে তাঁর কাছে বুঝিয়ে দেওয়া এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী বিধবা।
এ বিষয়ে রাধা রানী দাসের করা সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে অসহায় অবস্থায় থাকা একজন বিধবার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন যেন দখলদারির কারণে হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগী পরিবারটির।