যশোর শহরের আরবপুর মোড়ে পূর্বশত্রুতার জেরে আল-আমিন নামে এক যুবককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আহত যুবকের পক্ষে কথা বলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নাদিমকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে আরবপুর মোড়ে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে বিরোধ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ পর্যন্ত গড়ায়। আহত আল-আমিন যশোর শহরের আরবপুর মোড় এলাকার রিপন সরদারের ছেলে।
আহত আল-আমিনের অভিযোগ, স্থানীয় একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য রোববার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রেলগেট তেতুলতলা এলাকা সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় । সেখানে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিরোধের মীমাংসা হয়। কিন্তু পরদিন সোমবার সেই মীমাংসিত বিষয়কে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়।
আল-আমিনের দাবি, সোমবার রাত ৯টার দিকে আরবপুর দীঘিরপাড় এলাকার রাব্বি, শামীম, তারেক ও মামুন তার ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নাদিম। পরে তিনি ও স্থানীয় কয়েকজন মিলে আহত আল-আমিনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নিয়েও শেষ হয়নি উত্তেজনা। অভিযোগ রয়েছে, আহত আল-আমিনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে রাব্বি ও শামীমের অনুসারীরাও উপস্থিত হন। এর কিছুক্ষণ পর আগের দিনের সালিস বৈঠকে অংশ নেওয়া আল-আমিনের বিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি হাসপাতালে এসে পুনরায় বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় আহত আল-আমিনের পক্ষে কথা বলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল নাদিম। তাঁর অভিযোগ, আল-আমিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর চড়াও হন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়।
আব্দুল্লাহ আল নাদিম বলেন, ‘আমি আহত আল-আমিনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে তাঁর পক্ষে কথা বলায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা আমাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেন। আমার ওপর এ হামলা পূর্বপরিকল্পিত।’
এদিকে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ভেতরে প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনায় রোগী, স্বজন ও উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের সামনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত আল-আমিন ও এনসিপি নেতা আব্দুল্লাহ আল নাদিম অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থানে প্রকাশ্যে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় একটি বিরোধ সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা হওয়ার পরও কেন আবার সংঘর্ষের সূত্রপাত হলো, কারা যুবক আল-আমিনের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কীভাবে এনসিপি নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ