চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুযোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। এসব পরীক্ষার্থীকে এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। এবারের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন পরীক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের এই সুযোগের কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, সাধারণত এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হলে তাকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরের বছরের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দেয়ার পাশাপাশি চাইলে সব বিষয়েও অংশ নেয়ার সুযোগ থাকে। তবে এক বা দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার কারণে একজন শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এতে তার শিক্ষাজীবনের স্বাভাবিক অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মানসিক চাপও তৈরি হয়।
এর আগে শনিবার সকাল ১১টায় চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ফলাফলে সার্বিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। এ বছর মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন। ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ১৩৭ জন। সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন।
অন্যদিকে কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪ হাজার ৫২০ জন। দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫৩ জন।
এ ছাড়া যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন। বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ে দেওয়া তথ্যে দুটি ভিন্ন সংখ্যা রয়েছে, ৫ হাজার ৯৫০ ও ৯৫০।