কেশবপুরে ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রকোপ, এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ১০৭ জন - sanatanitv

কেশবপুরে ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রকোপ, এক সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি ১০৭ জন

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: মে ৭, ২০২৬

প্রতিনিধি: স্বরুপ বিশ্বাস যশোর।

যশোরের কেশবপুর উপজেলা জুড়ে ব্যাপক হারে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এতে সাধারণ মানুষ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। রোগীর চাপ অব্যাহত থাকলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্যালাইনের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মোট ১০৭ জন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া বহির্বিভাগ থেকে আরও ২২ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৭ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর আগে ভর্তি ছিলেন আরও ৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।

ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার মূলগ্রামের মফিজুর রহমান (৩৫), মোবারেক গাজী (৬৫), কাস্তা গ্রামের নাফিজ (২৫), হাবাসপোল গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৩০), কলাগাছি গ্রামের ফিরোজা খাতুন (৫০), ব্রহ্মকাটি গ্রামের মোমেনা খাতুন (৬০), পার্শ্ববর্তী মণিরামপুর উপজেলার খাজুরা গ্রামের সালেহা খাতুন (৫০), দূর্বাডাঙ্গা গ্রামের আয়শা খাতুন (৭), মনোহরপুর গ্রামের রাকিব হাসান (৫ মাস), গড়ভাঙ্গা গ্রামের আব্দুল মজিদ বিশ্বাস (৭০) ও ভাইশা গ্রামের নোমান সাদি (৫)সহ আরও অনেকে।

এছাড়া বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আরও ৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু রয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী কাস্তা গ্রামের নাফিজ অভিযোগ করে বলেন,
“ডাক্তার সকালে একবার দেখে যান। এরপর সারাদিন আর আসেন না। নার্সদের ডাকলে অনেক সময় রাগারাগি করেন। ডাক্তার বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে আনতে বলেন। নিয়ে আসার পরও আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।”

৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে রোগীর চাপ বাড়ায় অনেককে বারান্দায় অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ বিষয়ে ডা. রেহেনেওয়াজ বলেন,“হাসপাতালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২৬ জন। গত এক সপ্তাহে মোট ১০৭ জন ভর্তি হয়েছেন। রোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে হাসপাতালে স্যালাইনের সংকট দেখা দিতে পারে।”