যশোরের আ.লীগ নেতা মোহিত কুমার নাথের জামাই সাবেক ওসি বিপ্লব গ্রেপ্তার

মাগুরার শালিখায় ২০১৫ সালে পুলিশের গুলিতে বিএনপি নেতা মশিউর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই মামলায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

গ্রেপ্তার বিপ্লব কুমার নাথ যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথের আপন জামাই বলে জানা গেছে। তিনি সর্বশেষ সুন্দরবন জোনের মোংলা টুরিস্ট পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বরিশাল থেকে বিপ্লব কুমার নাথকে আটক করে। মাগুরা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কামরুজ্জামান তাঁর আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মাগুরার শালিখা উপজেলায় বিএনপির একটি বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ওই সময় শালিখা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিপ্লব কুমার নাথ।

অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপের পাশাপাশি গুলি চালায়। এতে বিএনপি নেতা মশিউর রহমান নিহত হন।

ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে নাশকতা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা করা হয়। ওই মামলাগুলোতে নিহত মশিউর রহমানকেই প্রধান আসামি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি সে সময় বিতর্কের সৃষ্টি করে।

২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিহত মশিউর রহমানের পরিবার আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাঁর বাবা বাদী হয়ে তৎকালীন ওসি বিপ্লব কুমার নাথসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এসআই ইসমাইল হোসেনকেও আসামি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিপ্লব কুমার নাথ কর্মজীবনে মাগুরার শালিখা, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা, সাতক্ষীরার কলারোয়া ও পাটকেলঘাটা এবং যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর থানায় দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন পর হত্যা মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নিহতের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *